রাজনীতি

পুলিশের সঙ্গে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

কোটা আন্দোলনের নিহতদের শিক্ষার্থীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় গায়েবানা জানাজা নামাজ শেষে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েক রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে পুরানা পল্টন মোড়ে এই ঘটনা ঘটে।

সরজমিনে দেখা গেছে, গায়েবানা জানাজা নামাজ শেষে নেতাকর্মীরা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট দিয়ে বের হয়ে পল্টনের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া দেন। এ সময় নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশও কর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েক রাউন্ড টিয়ারগ্যাসও নিক্ষেপ করে পুলিশ।

এদিকে দুপুর ১২টার আগে থেকেই বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ওই সময় পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয় যে, গায়েবানা জানাজা নামাজের অনুমতি নেই। পরে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে বায়তুল মোকাররমে সামনে আজাদ প্রডাক্টসের গলিতে কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। এ সময় মিলন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এরপরে এডভোকেট সুজন নামে বায়তুল মোকাররমের সামনে থেকে আরও একজনকে আটক করে পুলিশ।

এছাড়া দুপুর দেড়টার দিকে বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে টকশো ব্যক্তিত্ব ডা. শাখাওয়াত হোসেন শায়ন্ত’কে পুলিশ আটক করে পল্টন থানায় নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।

বেলা ১টা দিকে বায়তুল মোকাররমে প্রবেশ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপরে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করেন। তাদের সবাইকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় গায়েবানা জানাজা নামাজের অনুমতি নেই। পরে নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আসেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। কিন্তু পুলিশের বাধার কারণে তারা মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করতেরতে পারেন।

এদিকে পুলিশের বাধার মুখেই বাদ যোহর বায়তুল মোকাররমের মসজিদে গায়েবানা জানাজা নামাজ শুরু হয়। ভিতরে প্রবেশ করতে না পেরে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাকর্মীরা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের রাস্তায় আলাদাভাবে গায়েবানা জানাজা নামাজ আদায় করেন। এছাড়া বিএনপির ও অন্যান্য দলের অসংখ্য নেতাকর্মীকে বায়তুল মোকাররমে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ।

জানাজা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিষয়টি সরকার নিজেরা সমাধান করতে পারতো। কিন্তু পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদে কর্মসূচি দিবো।

গায়েবানা জানাজায় শরিক হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, ঢাকা বিভাগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, সদস্য সচিব আমিনুল হক, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

মতামত দিন